• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :

সৈয়দপুরে অনুদানের চেক পাওয়ার আগেই মারা গেছেন ৮ রোগী

সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় সরকারের সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে জটিল রোগের চিকিৎসার আর্থিক অনুদানের চেক পাওয়ার আগেই ৮ জন রোগী মারা গেছেন। এখন তাদের নমিনিদের নামে নতুন করেন চেক ইস্যূ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্টোকে প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। প্রতিটি উপজেলা সমাজ সেবা অধিদফতরের মাধ্যমে নির্দিষ্ট আবেদন ফরমের আবেদন করতে হয়। পরবর্তীতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলায় চলতি ২০২১-২০২২ইং অর্থ বছরে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য সরকারি অনুদান পেতে ২৯ জন আবেদন করে। উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয় থেকে যথারীতি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে নীলফামারী জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এতে তারা সরকারি অনুদান পাওয়ার উপযোগী হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। গত ৮ মে নীলফামারী সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে সুপারিশপ্রাপ্তদের নামে ৫০ হাজার টাকা করে ২৯টি চেক ইস্যূ করা হয়। কিন্তু চিকিৎসার আর্থিক অনুদানের ওই চেক পাওয়ার আগেই মারা যান ৮জন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী।

এদের একজন হচ্ছেন মোছা. আবেজা (৪৯)। তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেলপুকুর মোল্লাপাড়ার মৃত. ছকি মামুদের স্ত্রী। তিনি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। চার সন্তানের জননী বিধবা আবেজার স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে পড়ে গেল ২০২১ সালে। তাঁর চিকিৎসা পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক অর্থকড়ি ব্যয় করা হয়। কিন্তু তারপরও তিনি সুস্থ হয়ে উঠেননি। এ অবস্থায় তাঁর চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন তাঁর পরিবার। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ-খবর পেয়ে সমাজ সেবা অধিদফতরে মাধ্যমে তাঁর সুচিকিৎসার আর্থিক অনুদানের জন্য আবেদন করা হয়। তাঁর নামে যথারীতি সরকারের সমাজ সেবা অধিদফতর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা অনুদানও বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু অনুদানের চেক হাতে পাওয়ার আগেই মারা যান বিধবা মোছা. আবেজা।

শুধু মাত্র আবেজা নয়। নীলফামারীর সৈয়দপুরে এ রকম জটিল রোগের ৮ জন রোগী চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অধিফতরের সরকারি আর্থিক অনুদানের অর্থ পাওয়ার আগেই মারা গেছেন। তারা হচ্ছেন – আব্দুল রহিম, মরিয়ম খাতুন, শ্রী জানকি রায়, মোছা. আলেফা বেগম, হালিমা খাতুন, মোছা. মিরিজন বেওয়া ও রশিদুল ইসলাম।

আবেজা’র জামাই সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মত্তর গ্রামের টগর আলী জানান, তাঁর শ্বাশুড়ীর চিকিৎসায় অনেক টাকা-পয়সা ব্যয় হয়েছে। তারপরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এমনকি তিনি মারার যাওয়ার পর অর্থের অভাবে দাফন কাজের জন্য মানুষের কাছে সাহায্যের হাত বাড়াতে হয়। আবেদন করার পর যথাসময়ে সরকারি অনুদানের চেক পাওয়া গেলে হয়তো তাঁর শ্বাশুড়ীকে বাঁচানো যেত।

তিনি জানান, তাঁর শ্বাশুড়ীর চিকিৎসায় অনেক ঋণ হয়েছে। এখন নমিনির নামে নতুন করে চেক ইস্যু করা না গেলে ওই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।

আটজন আবেদনকারী চিকিৎসার সরকারি অনুদান না পেয়েই মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুর মোহাম্মদ । তিনি জানান, যে সব আবেদনকারী চেক হস্তান্তরের আগেই মারা গেছেন, ওই সব চেক এখন নতুন করে তাদের নমিনির নামে ইস্যূর জন্য নীলফামারী জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ